মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ব্যবসা বানিজ্য

ব্যবসা ও বাণিজ্য

শিল্প কারখানাঃ

০১। সাত্তার ম্যাচ ওয়ার্কস্ঃ ০২টি।

০২। আজিজ উদ্দিন ফ্যাক্টরী

০৩। বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ণ সংস্থা ।

বান্দরবান পার্বত্য জেলার সম্ভাবনাময় শিল্পঃ

বান্দরবান পার্বত্য জেলা দূর্গম পাহাড়ী এলাকা হলেও এটি প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ বিধায় জাতীয় পর্যায়ে এ জেলার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বিস্তীর্ণ পাহাড়ী এলাকায় অবস্থিত অশ্রেণীভূক্ত বনাঞ্চল মূল্যবান কাঠ ও বনজ সম্পদে পরিপূর্ণ। একই সংগে এ জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত সাংগু ও মাতমূহুরী নদী উৎপাদিত বনজ সম্পদ আহরণ ও বিপননে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ জেলার উৎপাদিত প্রধান বনজ দ্রব্যের মধ্যে সেগুন, গামারী, গর্জন, শিল কড়ই, তৈলসুর ইত্যাদি মূল্যবান কাঠ ও বাঁশ প্রধান। কৃষিজ দ্রব্যের মধ্যে আনারস, কলা, পেঁপে, কমলা, লেবু ও আলু। উৎপাদনের কিছু তথ্যঃ

 

ক্রমিক নং

অর্থকরী ফসলের নাম

আবাদকৃত জমি

(হেক্টরে)

মোট উৎপাদন

(মেঃ টন)

 

   

০১

কাঁঠাল

২১০০

৫০২০০

০২

কলা

৩৮০০

৭৬৪০০

০৩

আনারস

১৯৫০

৭৫৩০০

০৪

আম

১৮০০

২২৮০০

০৫

লেবু

১১০০

১৮৭০০

০৬

পেঁপে

১০০০

১৬৬০০

০৭

নারিকেল

৮০০

৮৮০০

০৮

পেয়ারা

৮০০

১০৬০০

০৯

কুল(বরই)

৫০০

২৪০০

১০

কমলা

৩৮০

৯৫০০

১১

জাম

২৫০

১৩০০

১২

জাম্মুরা

২৩০

৩০০০

১৩

আমলকী

১৮০

১৭০০

১৪

আমড়া

২০০

২৩০০

১৫

লিচু

২০০

১০০০

১৬

বেল

২০০

৫৮০

১৭

জলপাই

২০০

১৬০০

১৮

তেতুল

১২৫

৯২০

১৯

সফেদা

৯০

৬০০

২০

গরিফা

২০

১০০

২১

কাজু বাদাম

৭০

৫৫০

২২

সুপারী

১০০

৬০০

২৩

কামরাঙ্গা

৪০

৫৫০

২৪

ডেওয়া

৩০

৪২০

২৫

খেজুর

৫০

২৪০

২৬

আতা

৪০

৩১০

২৭

ডালীম

৩০

৯০

২৮

চালতা

৪০

২৫০

২৯

তাল

৩০

৮০০

৩০

পানিগোলা

৩৫

৪১০

৩১

গোলাপজাম

২০

১২

৩২

তরমুজ

১২০

৪৭৮৮

৩৩

আঁখ

২২০

১২০০০

৩৪

লটকন

১০

৫০

 

বান্দরবান পার্বত্য জেলায় কোন ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ প্লান্ট নেই এবং কোন হিমাগারও নেই ।ফলে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ কৃষিজাত পণ্যের একাংশ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করলেও অধিকাংশই সমতল ভূমিতে পরিবহন করা হয় এবং কিছু কিছু যথাসময়ে পরিবহনের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। বান্দরবান জেলা সদরে একটি ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ প্লান্ট এবং একটি হিমাগার স্থাপন করা হলে এখানকার উৎপাদিত ফল ফলাদি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এ ব্যবস্থা দেশের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণে অত্যন্ত সহায়ক ভুমিকা পালন করবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় তুলা চাষের প্রচুর সম্ভাবনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষত কুমিল্লা ভ্যারাইটি তুলা উৎপাদনের জন্য বান্দরবানের মাটি অত্যন্ত উপযোগী বলে বিবেচিত হয়েছে বিধায় এখানে তুলা গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে এই জেলায় ১১,০০০ একর জমি তুলা চাষের আওতায় আনা হয়েছে এবং তাতে বাৎসরিক ৬১০০০ কেজি (১৬৪৮ বেল আঁশ তুলা) বীজ তুলা উৎপন্ন হয়। ইহা একটি মূল্যবান জাতীয় সম্পদ। বান্দরবান পার্বত্য জেলায় সাম্প্রতিককালে রাবার উৎপাদনের সম্ভাবনা ক্রমাগতভাবে উজ্জ্বলতর হচ্ছে। রাবার বাগানসমূহে চাষ শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যে বেশ কিছু বাগানে রাবার উৎপাদন শুরু হয়েছে। এ এলাকার উপযোগী সকল জমিতে রাবার উৎপাদন শুরু হলে তা বাংলাদেশের রপ্তানী ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় ভূমিকা পালন করবে বলে সবার ধারণা। সাংগু নদী একটি খরস্রোতা নদী। এই নদীর উজানে বাঁধ দিয়ে জল বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এই বিষয়ে ইতিপূর্বে প্রাথমিক জরীপ চালানোর পর পরবর্তীতে সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি পুনরায় বিবেচনায় আনা যেতে পারে।

 

পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাঃ

মনোরম নৈসর্গিক দৃশ্যের সমাহার ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সম্মৃদ্ধ বান্দরবান পার্বত্য জেলা ঠিক যেন ছবির মত। দেশের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গসহ সর্বত্র সবুজ-শ্যামলিমা গিরিশ্রেনীর এক অপরূপ দৃশ্য এ জেলায়। ভারত ও মায়ানমার এ দুটি দেশের আর্ন্তজাতিক সীমানায় অবস্থিত দেশের সর্বাধিক সংখ্যক উপজাতির বসবাস সম্বলিত এ জেলা স্বকীয় বৈশিষ্ঠ্যে স্বাতন্ত্র্য মন্ডিত। বিশেষ বিশেষ স্থানগুলোতে সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও পর্যটন কেন্দ্র নির্মিত হলে এ জেলা দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কাছে একটি অন্যতম আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হতে পারে।